মতামত | খোমেনী ইহসান

মাদরাসাগুলো ভেঙে ফেলার আগে, আলেমদের হত্যার আগে তাদেরকে ব্যাডনেইম দেওয়ার শয়তানি মোকাবিলার পথ হলো ব্যাপারটাকে মোকাবিলার জায়গায় নিয়ে যাওয়া।

খেয়াল করে দেখুন, মবকারী রুমিকে রুস্তম বানিয়ে সেলিব্রেট করার পর কান্নাকাটি শুরু হয়েছে। এখন হাফেজ তাসরিফের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাতে হচ্ছে। রুস্তম রুমিও তার অপরাধের বড়াই ছেড়ে ব্যাখ্যার লাইনে আসছে। এটা হচ্ছে মূলত প্রতিরোধের আহ্বানের কারণে।

এবার মাদরাসার বলাৎকার ইস্যুতে ফাইনাল কথা বলি। শিশুদের যৌন অপরাধ একটি ফৌজদারি অপরাধ। এ অপরাধের বিচার ও দমনের একান্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য রাষ্ট্রের। কওমি মাদরাসায়, আলিয়া মাদরাসায় যত যৌন নিপীড়ন হয় তার দায় পুরোটাই রাষ্ট্রের, কোনো অপরাধের জন্য মাদরাসা দায়ী নয়। যেমন কোনো ফৌজদারি অপরাধের জন্য কোনো কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় দায়ী নয়। কারণ ব্যক্তির অপরাধের জন্য কালেক্টিভ দোষারোপ ও পানিশমেন্ট আরেকটা অপরাধই।

ফৌজদারি অপরাধের দায় মাদরাসার ওপর চাপানো সমাজে কুশিক্ষা ও বর্বরতা চর্চারই প্রতিফল। দেখবেন মাদরাসা পাস ও সাবেক ইসলামপন্থীদের এ অসুখ বেশি। এরা চায় মাদরাসায় রেইপ বা বলাৎকার হলে তার বিচার মাদরাসা কর্তৃপক্ষ করবে। এ ভয়ংকর চিন্তা। কোনো ছাত্র রেইপ বা বলাৎকারের শিকার হলে এসব পুলিশ কেস হবে এবং অবশ্যই মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হবে। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রকেই উদ্যোগ নিতে হবে। ছাত্রদের সেফটি ডিভাইস দেবে এবং বাটন চাপলে পুলিশ তাদের উদ্ধার করবে। এখানে বলা দরকার, মাদরাসা বা সেমিনারিগুলোতে পুলিশ নিয়মিত পরিদর্শন, তল্লাশি ও সেফটি ক্লাসের আয়োজন করবে। লোকাল পুলিশের সার্ভারে সিসিটিভি ফুটেজ থাকবে। তারা মনিটর করবে।

আরেকটা কথা হলো, শিশুদের যৌন নিপীড়নের ঘটনাকে মাদরাসার বলে ফ্রেমিং করা যাবে না। পরিচয় হবে শিশু ও শিক্ষক। মাদরাসা বললে এটি রেসিজম হবে। এসব বিষয়ের বোঝাপড়া পশ্চিমে সারা হয়েছে। টেরোরিজমকে ইসলামি টেরোরিজম বলা যেমন রেসিজম, তেমনি শিশুদের যৌন নিপীড়নের ঘটনাকে মাদরাসার বলা রেসিজম। এখানে একটি কমিউনিটিকে টার্গেট করা হয়।

দুঃখজনক ব্যাপার হলো, অক্ষরজ্ঞান আর কথা বলতে পারার সুযোগে ধর্মীয় অঙ্গনের অনেকে মূর্খতা ও হীনম্মন্যতার মুখপাত্র হয়ে গেছেন। এরা সেক্যুলারদের থেকে পৈশাচিক উল্লাস শিখেছে। যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীরা যৌন নির্যাতনের শিকার হলে এদের দাবি হয় মাস্টারের চাকরি খাও, ছুটিতে পাঠাও, পদত্যাগ করাও। কিন্তু পুলিশ কেস হয় না, বিচার হয় না। এখন মাদরাসায়ও একই ব্যাপার দাবি করা হচ্ছে। ফৌজদারি অপরাধের বিচারে এরা ব্যক্তির বিচারের বদলে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা দেখতে চায়।

যাই হোক, মাদরাসার ভেতর থেকে প্রতিরোধ আসুক। সমাজে ভালোমানুষি অতটা ভালো নয়। এক সময় বাংলাদেশে অল্প কিছু শিক্ষিত মানুষ ছিল, তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ইডেন কলেজের ছাত্রী হল নিয়ে বাজে কথা বলা হতো। তখন অনেক ধর্মপরায়ণ ছাত্রীও ওসব ফ্রেমিংয়ের শিকার হতেন। কিন্তু একটা পর্যায়ে ওই সব কুৎসিত চর্চার অবসান হয়েছে। মাদরাসা নিয়েও সমাজের কুৎসিত চর্চার অবসান হবে ইনশাআল্লাহ।

(লেখাটি লেখকের ব্যক্তিগত মত। দাওয়াহ২৪ বিশ্বাস করে, প্রতিটি শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র, প্রতিষ্ঠান ও সমাজ সবার দায়িত্ব।)