গুয়াংজুর উষ্ণ পরিবেশ থেকে ৩ ঘণ্টার বিমান ভ্রমণ শেষে বেইজিংয়ের কনকনে শীতে পৌঁছান বিশিষ্ট কবি ও শিল্পী মুহিব খান। সাম্প্রতিক চীন সফরে বৈরী অভিজ্ঞতা, লাগেজ হারানোর ভোগান্তি ও তীব্র শীতের মাঝেও এক ব্যতিক্রমী ইসলামী দাওয়াতী অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন তিনি।

সফর সূত্রে জানা যায়, চীন বন্দরে পৌঁছেই একটি গুরুত্বপূর্ণ লাগেজ হারিয়ে ফেলেন তিনি। সেই লাগেজে শীতের পোশাক, ওষুধপত্র, শুকনো খাবার, জায়নামাজ ও প্রয়োজনীয় বইপুস্তক ছিল। লাগেজ হারানোর এই সংকটের মধ্য দিয়েই বেইজিংয়ের হোটেলে পৌঁছে গভীর রাতে মসজিদ ও হালাল খাবারের সন্ধানে বের হতে হয় তাদের। অনেক খুঁজে একটি মসজিদের সন্ধান মিললেও রাতের কারণে তা বন্ধ পাওয়া যায়। পরে ভেজিটেবল ও ল্যাম্ব স্যুপ দিয়ে রাতের খাবার সম্পন্ন করে হোটেল কক্ষে ফিরে সহযাত্রী প্রকৌশলী বন্ধুকে নিয়ে জামাতে নামাজ ও কোরআন তেলাওয়াত শুরু করেন।

তেলাওয়াত চলাকালীন হোটেলের দরজায় পরপর একাধিকবার টোকা ও ধাক্কার শব্দ শোনা যায়। তবে নামাজ শেষে দরজা খুলে কাউকে দেখতে পাননি বলে জানান মুহিব খান। এটিকে তেলাওয়াতের আওয়াজে কারও আপত্তি নাকি কোনো মদ্যপ ব্যক্তির ভুল কাজ—তা স্পষ্ট নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। পরদিন সকালে আযানের সুরবঞ্চিত কনকনে শীতের আবহাওয়ায় অসুস্থ বোধ করলেও নিজ দেশের কথা স্মরণ করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।

তবে এই চীন সফরে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল তাদের অভিনব দাওয়াতী কৌশল। সফরকালে গুয়াংজুর দুটি আধুনিক শপের দুজন নারী কর্মচারীকে মাত্র ১০ থেকে ১২ মিনিটের সংক্ষিপ্ত আলোচনায় ইসলামের প্রতি উদ্বুদ্ধ করতে সক্ষম হন তারা। পরবর্তীতে তাদের নতুন নাম রাখা হয় 'কামিলাহ' ও 'সাফা'। এছাড়া পথিমধ্যে একজন গাড়ি চালক যুবক এবং বিমানে পাশাপাশি আসনে বসা এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকেও সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষক বক্তব্যের মাধ্যমে ঈমানের বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন তারা।

কয়েকদিনের সংক্ষিপ্ত এই সফরে শারীরিক কষ্ট ও লাগেজ হারানোর তিক্ততা থাকলেও ইসলামের সুমহান বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আনন্দকে সফরের সবচেয়ে বড় অর্জন বলে মনে করছেন কবি মুহিব খান।