জুলাই অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ও দিল্লিতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাস দেওয়ার প্রসঙ্গকে ‘হাস্যকর’ বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। ভারতের সঙ্গে থাকা প্রত্যর্পণ চুক্তির কথা উল্লেখ করে তিনি শেখ হাসিনাকে একজন ‘পলাতক সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঢাকা সফররত চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংকে বিদায় জানানোর পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা দেওয়া আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাসের আবেদন করেছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, "এখানে কি শ্বশুরবাড়ি রংপুর বেড়াইতে আসবে যে তারে পাসপোর্ট দেব, আর পাসপোর্ট দিয়ে আসবে? আমাদের অ্যাকটিভ এক্সট্রাডিশন ট্রিটি (প্রত্যর্পণ চুক্তি) আছে টেররিস্টদেরকে ধরার, ক্রিমিনালকে ধরার।

সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বর নাগাদ দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে পাসপোর্ট দেওয়ার বিষয়টি হাস্যকর উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "সন্ত্রাসী আর অপরাধীকে ধরতে পাসপোর্ট লাগে না, এটা হস্তান্তর হয়। তার প্রত্যর্পণের বিষয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আর আইনি প্রক্রিয়াগুলো বিদ্যমান রয়েছে। হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচার ও টেররিস্টকে কি নরমাল কমার্শিয়াল ট্রাভেলার হিসেবে দেখব যে, পাসপোর্ট দেব আসেন, আসিয়া আপনার শ্বশুরবাড়ি রংপুর বেড়াইয়া যান?

অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডায় অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের বৈঠক শেষে বৃহস্পতিবারই দেশে ফিরেছেন প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তাই শেখ হাসিনা পাসপোর্টের আবেদন করেছেন কি না, সে বিষয়টি এখনও তার জানা নেই বলে জানান তিনি। তবে ভারতের কাছে শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের জোরালো দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, "বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের মধ্যে কার্যকর থাকা প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী অপরাধী ও সন্ত্রাসীদের প্রত্যর্পণের সুযোগ রয়েছে।

উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমাতে প্রাণঘাতী নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে গত নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে তার অনুপস্থিতিতেই মৃত্যুদণ্ড দেয়। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই আন্দোলনে প্রায় ১৪০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। তবে শেখ হাসিনা হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। শেখ হাসিনাকে ফেরত দিতে ঢাকার পক্ষ থেকে কয়েক দফা চিঠি দেওয়া হলেও দিল্লির কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর এখনও পাওয়া যায়নি।