রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আগামীকাল শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আজিমুশ্বান ইসলাহী ইজতেমা। সংগঠনটির আমির শায়খুল হাদিস আল্লামা মুফতি মুহাম্মাদ রশীদুর রহমান ফারুক বর্ণভী (পীর সাহেব বরুণা)-এর আহ্বানে আয়োজিত এ ইজতেমাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এতে লক্ষাধিক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশ নেবেন।

শুক্রবার বাদ ফজর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ইজতেমার কার্যক্রম চলবে। এতে দেশ-বিদেশের প্রখ্যাত আলেমরা মুসল্লিদের উদ্দেশে বয়ান করবেন।

ইজতেমায় অংশ নিতে বৃহস্পতিবার রাত থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পীর সাহেব বরুণার ভক্ত-মুরিদান ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমবেত হতে শুরু করেছেন। শেষ রাতে তাহাজ্জুদ, জিকির-আজকার ও মুনাজাতের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধির আমল পালনের প্রস্তুতিও রয়েছে।

আয়োজকদের ভাষ্য, মানুষের মধ্যে দ্বীনি চেতনা জাগ্রত করা, আত্মশুদ্ধির প্রতি উদ্বুদ্ধ করা এবং ব্যক্তি ও সমাজজীবনে ইসলামী মূল্যবোধের চর্চা জোরদার করাই এ ইজতেমার মূল উদ্দেশ্য।

ইজতেমার সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মুফতি শেখ সাদ আহমদ আমীন বর্ণভী জানান, ইজতেমার আয়োজনের সব প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিপুলসংখ্যক মুসল্লির সমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ সময় তিনি ইজতেমা সফল করতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

এদিকে ইজতেমাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার বাদ মাগরিব মাঠে উপস্থিত হন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির পীর সাহেব বরুণার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও শেখবাড়ী জামিয়ার নির্বাহী মুহতামিম হাফেজ মাওলানা শেখ আহমদ আফজল বর্ণভী মন্ত্রীকে স্বাগত জানান। আগত অতিথিদের সামনে ইজতেমা আয়োজনের উদ্দেশ্য তুলে ধরেন যুগ্ম মহাসচিব মুফতি শেখ সাদ আহমদ আমীন বর্ণভী।

এর আগে খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইনের নেতৃত্বে সংগঠনটির একটি প্রতিনিধিদল ইজতেমার মাঠ পরিদর্শন করে।

এ ছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন মাদরাসার মুহতামিম, রাজনৈতিক নেতা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরাও ইজতেমা ময়দানে উপস্থিত হন।

আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৪৪ সালে। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির হাফেজ মাওলানা শেখ আহমদ আফজল বর্ণভীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কুতবে দাওরান মুজাদ্দিদে জামান খলিফায়ে মাদানী আল্লামা লুৎফুর রহমান বর্ণভী (রহ.) সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন। আট দশকের বেশি সময় ধরে সংগঠনটি বৃহত্তর সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ধর্মীয়, নৈতিক ও আধ্যাত্মিক উন্নয়নে কাজ করে আসছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দুর্যোগ ও সংকটকালে মানবিক কার্যক্রমেও অংশ নিয়ে থাকে।

আয়োজকরা আশা করছেন, আগামীকালের এ ইসলাহী ইজতেমা ধর্মপ্রাণ মানুষের আত্মশুদ্ধি, নৈতিক উন্নয়ন ও দ্বীনি চেতনা জাগ্রত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।