ডেস্ক রিপোর্ট | dawah24.com

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেট আসনে জয়ী হয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ড. আবদুল আল-সাইয়েদ। এর মধ্য দিয়ে তিনি মার্কিন সিনেটের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হলেন।

স্থানীয় সময় বুধবার (৪ নভেম্বর) রাত ২টা ২৭ মিনিটে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) তাঁকে বিজয়ী ঘোষণা করে। তিনি পরাজিত করেছেন সাবেক রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান ও সাবেক এফবিআই কর্মকর্তা মাইক রজার্সকে। প্রায় তিন-চতুর্থাংশ ভোট গণনা শেষে আল-সাইয়েদ পান ৫১.৮ শতাংশ ভোট, রজার্স পান ৪৬.২ শতাংশ।

এপির ঘোষণার আগেই ডেট্রয়েটে সমর্থকদের সামনে বিজয় ঘোষণা করে আল-সাইয়েদ বলেন, "মিশিগান, আমরা পেরেছি।"

কঠিন লড়াই

ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্স অবসরের ঘোষণা দেওয়ায় আসনটি শূন্য হয়। দলীয় প্রাথমিক বাছাইয়ে আল-সাইয়েদ মাত্র প্রায় ১ শতাংশ ভোটের ব্যবধানে কংগ্রেসওম্যান হেইলি স্টিভেনসকে হারান। অথচ গভর্নর গ্রেচেন হুইটমার ও সিনেটর পিটার্সের মতো দলের প্রভাবশালী নেতারা তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীকে সমর্থন দিয়েছিলেন।

মূল নির্বাচনেও লড়াই ছিল তীব্র। এটি ছিল এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও আলোচিত লড়াইগুলোর একটি। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স নিজে মিশিগানে এসে তাঁর বিরুদ্ধে প্রচারণা চালান।

কে এই আবদুল আল-সাইয়েদ

মিশিগানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে জন্ম নেওয়া আল-সাইয়েদ মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেডিকেল ডিগ্রি এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরেকটি ডক্টরেট অর্জন করেছেন।

তিনি ডেট্রয়েট শহরের স্বাস্থ্য বিভাগের নির্বাহী পরিচালক, কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক এবং ওয়েইন কাউন্টির স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৮ সালে তিনি মিশিগানের গভর্নর পদে দলীয় মনোনয়নের লড়াইয়ে নেমেছিলেন, তবে তখন হুইটমারের কাছে হেরে যান।

নির্বাচনী প্রচারে তিনি সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং ধনীদের ওপর কর বাড়ানোর কথা বলেছেন। সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স শুরু থেকেই তাঁকে সমর্থন দিয়েছেন।

আল-সাইয়েদ স্ত্রী সারাহ ও দুই মেয়েকে নিয়ে মিশিগানের অ্যান আরবার শহরে বসবাস করেন।

ঐতিহাসিক তাৎপর্য

আল-সাইয়েদ শুধু প্রথম মুসলিম সিনেটরই নন, ১৯৬৯ সালের পর তিনি ডেমোক্র্যাট দল থেকে সিনেটে যাওয়া প্রথম চিকিৎসকও। মার্কিন গণমাধ্যমের মতে, তাঁর জয় প্রমাণ করেছে যে দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যেও প্রগতিশীল প্রার্থীরা জিততে পারেন।