ইমাম ফয়জুল্লাহ আমান, আনসান মসজিদ, দক্ষিণ কোরিয়া
আনসান বাজার পার্কের কোণে কোরিয়ান একটি সংস্থা সার্ভে করছে। আনসান শহরে বসবাসরত বিদেশিদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে তারা কাজ করেন। আমাকে এই সার্ভেতে অংশ নিতে বললেন। আমি ৫/৬ পৃষ্ঠাজুড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দিলাম। এই দেশে থাকতে গিয়ে আপনার কি মানসিক সমস্যা হয়? একাকিত্ব অনুভব করেন? কখনো ডিপ্রেশনে ভোগেন? এমন সব প্রশ্ন। পাশে বসে সংস্থার এক কোরিয়ান কর্মী মেয়ে আমার উত্তরগুলো দেখছেন।
শেষে একটা প্রশ্ন এল, আপনার যদি কখনো মানসিক কষ্ট হয়, তখন কথা বলার মতো একান্ত কেউ কি আছে? কতজন আছে?
সেখানে কী লিখব, ভাবছিলাম। আনসানে প্রায় ৩০ হাজার মুসলিম আছে, তাদের সবার সাথেই আমি কথা বলতে পারি। সমস্ত মুসলিমই আমার আপনজন। প্রবাসে অনেকেরই কথা বলার মানুষের অভাব, কিন্তু ইমামদের এদিক থেকে কোনো অভাব নেই। তাই সংখ্যার ঘরে লিখলাম ১০০।
আমার লেখা দেখে মেয়েটি অনিচ্ছাকৃতভাবেই খুশি হয়ে হাততালি দিয়ে উঠলেন। সার্ভেতে অংশ নেওয়ার জন্য আমাকে একটি উপহারও দিলেন।
সেখান থেকে ফেরার পথে ভাবলাম, ১০০ নয়, সংখ্যাটা হবে ১।
কারণ আমাদের যত অভাব, অনুযোগ, অভিযোগ, দুঃখ, কষ্ট, হতাশা, বিশৃঙ্খলা, যন্ত্রণা, সবই তো একজনকেই বলি। বলা উচিতও কেবল তাঁকেই। যারা মুসলিম, তাদের মনের কথা শোনার জন্য সেই একজন আছেন। দৈনিক পাঁচবার আপনার মনের কথা শোনার জন্য তিনি ডাকছেন। তাঁর ডাকে সাড়া দিলে সত্যিই মনের কষ্ট একেবারে নাই হয়ে যায়।
আর আপনজনদের কাছে মনের কথা বলার সুযোগ, সেটাও তো তাঁরই দেওয়া নিয়ামত।
ঈমানের নিয়ামতের জন্য অযুত শোকর, হে মালিক!





